"কার্তিকী পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত রাস-উৎসব অতি বিশিষ্ট ধর্মীয় উদযাপন", একটি বিশেষ প্রতিবেদন
বলা হয়, 'রস' থেকেই 'রাস' শব্দটি এসেছে। 'রস' অর্থে সার, নির্যাস, আনন্দ, অমৃত ও ব্রহ্ম। তবে বৈষ্ণবদর্শনে 'রস' বলতে মূলত মধুর রসকেই বোঝায়।
কার্তিকী পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত রাস-উৎসব অতি বিশিষ্ট ধর্মীয় উদযাপন। বঙ্গজীবনের অন্যতম ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উদযাপন এই রাস। রাস শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অংশবিশেষ। বৃন্দাবনে শ্রীরাধা-সহ অন্য গোপীদের সঙ্গে লীলা করেছিলেন তিনি। 'রাস' মানে, পরস্পর হাত ধরে মণ্ডলাকারে নৃত্য। রাস মূলত পাঁচরকম: মহারাস, বসন্তরাস, কুঞ্জরাস, দিব্যরাস, নিত্যরাস। রাসের অনেকগুলি পর্যায়ও আছে: গোপিনীদের কৃষ্ণ-অভিসার, কৃষ্ণের বংশীবাদন, গোপিনীদের নৃত্যগীত, শ্রীকৃষ্ণের অন্তর্ধান এবং প্রত্যাবর্তন। বলা হয়, 'রস' থেকেই 'রাস' শব্দটি এসেছে। 'রস' অর্থে সার, নির্যাস, আনন্দ, অমৃত ও ব্রহ্ম। তবে বৈষ্ণবদর্শনে 'রস' বলতে মূলত মধুর রসই বোঝায়।
কখন পড়ছে রাসপূর্ণিমার তিথি?
তিথি অনুসারে, রাস পূর্ণিমা পড়েছে, আজ, ৭ নভেম্বর সোমবার। তিথি শুরু বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে। অর্থাৎ, রাসের তিথি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই তিথি শেষ হবে আগামী কাল ৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল ৪টে ৩১ মিনিটে। এই তিথিতে নদীতে পুণ্যস্নানও করা হয়-- একে কার্তিক স্নান বলে।
কী ভাবে উদযাপন করা হয় এই পুণ্যতিথি?
নদীতে স্নান (কার্তিক স্নান), এদিন অনেকেই উপবাস করেন। অনেকে সম্পূর্ণ উপবাস না করে জল, দুধ, সরবত, ফলের রস ইত্যাদি খেতে থাকেন । যাঁরা উপবাসে অক্ষম তাঁরা সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করে দিনটি পালন করেন।
এদিন আমিষ খাদ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য উপভোগও--যেমন, মদ্যপান বা ধূমপান। দিনটি কৃষ্ণের রাসলীলার উদযাপন, তাই এদিন অবশ্যই কৃষ্ণের বিশেষ পূজা বিধেয়।
Comments
Post a Comment