অযোধ্যাতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো হুল দিবস
দীনেশ চন্দ্র কুইরী, বাঘমুন্ডি,অযোধ্যা:- বৃহস্পতিবার ৩০শে জুন। দিনটি হুল দিবস হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস অনুযায়ী ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে আন্দোলনে নেমেছিল ভারতমাতার ২ আদিবাসী বীরযোদ্ধা সিধু ও কানু। সেই আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন অনেকেই।
সেই দিনটিকে স্মরন করে প্রতি বছর ৩০ জুন দিনটিকে হুল দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারা দেশজুড়ে দিনটিকে যথাযথ শ্রদ্ধার সাথে পালন করলেন আদিবাসীরা।
একই চিত্র পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি ব্লকের অন্তর্গত সুন্দরী অযোধ্যাতেও।
যেখানে তীর ধনুক হাতে সামিল হন আদিবাসীরা। পদযাত্রা শেষে এদিন অযোধ্যা পাহাড়ের বিরসা মুক্ত মঞ্চে সিধু কানুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বাঘমুন্ডি বিধান সভার তুরুন তুর্কি বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো।তিনিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন সিধু কানুর বীরত্বের কাহিনি।
এদিন অযোধ্যা পাহাড় আদিবাসী উন্নয়ন সংঘ ও বীর বীরসা ক্লাবের পরিচালনায় ১৬৪তম হুল দিবস পালন হয়।এদিন সিধু-কানহুর ছবিতে মাল্যদান করে আদিবাসী প্রকৃতি দেবতাকে স্মরণ করে শাল গাছে পূজো দেন। পুজোর সময় বাজতে থাকে ধামসা-মাদল ও গরু মহিষের সিং দ্বারা তৈরী এক বাঁশি বিশেষ। এদিন পাহাড়ের বীরসা মুক্ত মঞ্চে পুরুলিয়ার ঐতিহ্য ছৌ নাচ ও পাতা নাচ অনুষ্ঠিত হয়।আদিবাসীদের সমাগম ছিল একেবারে চোখে পড়ার মতো।
এদিন বিধায়ক ছাড়াও উপস্তিত ছিলেন, অযোধ্যা পাহাড় আদিবাসী উন্নয়ন সংঘের সম্পাদক অখিল সিং সর্দার, বাঘমুন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পতিত পাবন সিং মুড়া, এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক তথা সমাজসেবী শিবুরাম কিস্কু, বিশিষ্ট সমাজসেবী মানস মেহেতা সহ এলাকার বিশিষ্টজন ও ওই সম্প্রদায়ের অনেকেই। বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো জানান, সকল আদিবাসী সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে জল, জঙ্গল, জমি রক্ষা করতে হবে। বহিরাগতদের থেকে দূরে থাকতে হবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পাহাড়ের মানুষদের জন্য অনেককিছু করেছেন, আগামীদিন আরও নানান পরিকল্পনা রয়েছে পাহাড় ও আদিবাসীদের নিয়ে।আদিবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস রাখেন।
Comments
Post a Comment