সরস্বতী পুজোর আগে নাকি কুল খেতে নেই! জানুন এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা...

নতুন বছরের আগমন মানেই নতুন উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠা। আর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে উৎসবের তালিকা শুরুই হচ্ছে সরস্বতী পূজা দিয়ে। সরস্বতী বিদ্যার দেবী। তাই পড়ুয়ারা দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ লাভে সর্বদাই প্রচেষ্ট। বিশেষত বাঙালি পড়ুয়ারা দেবী স্বরস্বতীর কোপে পড়তে কখনই চাইবেন না। তবে বাঙালি গৃহস্থের ঘরে ঘরে সরস্বতী পূজো সংক্রান্ত একটি প্রবচন কিন্তু বেশ প্রচলিত।

সরস্বতী পুজোর আগে নাকি কুল খেতে নেই! খেলে বিদ্যার দেবী অসন্তুষ্ট হন। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষা অর্জনে। পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর দেবীর প্রকোপও পড়ে যাবে। অতএব পুজোর আগে কুল খাওয়া নৈব নৈব চ। তবে এই প্রবচনের আদেও কি কোনো সত্যতা আছে? দেখে নিই বিজ্ঞান কি বলছে। আসলে, বাংলার ঘরে ঘরে যাবতীয় যা কিছু প্রচলিত কথা, প্রবচন রয়েছে তার পেছনে কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। পূর্বপুরুষদের মুখনিঃসৃত কোন বাক্যই ফেলার নয়।

সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়ার প্রসঙ্গই ধরা যাক। পাকা কুল একটি অতি মিষ্ট ফল। তবে কাঁচা অবস্থায় তা যথেষ্ট টক আস্বাদযুক্ত হয়। এই কাঁচা, টক কুল খেলে তা সরাসরি গলা, পেট এবং দাঁতের ক্ষতি করে। কচিকাঁচারা যদি কাঁচা কুল খায় তাহলে তাদের পেটের সমস্যা দেখা দেবে। তবে যদি লোভ সামলে সরস্বতী পূজা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়, তাহলেই আর কোন চিন্তা নেই। ততদিনে কুল পেকে যাবে।

তাই পাকা কুল খেলে কোন শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অপরপক্ষে মরসুমী ফল হলো কুল। সেই মরসুমেই সরস্বতী দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। তাই গাছের প্রথম ফলটা দেবী সরস্বতীর শ্রী চরণেই উৎসর্গ করার বাসনা থাকে ভক্তদের। তাই তো “ঠাকুর পাপ দেবে”, এই চলতি কথার আড়ালে একদিকে আধ্যাত্বিক মনোবাঞ্ছা পূরণ এবং অপরদিকে স্বাস্থ্য সচেতনতা চলে আসছে বহুকাল ধরেই।

Comments