সিঙ্গুরে শিল্পপার্ক করার কথা ঘোষণা করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী...

সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সিঙ্গুরে একটি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করছি। এই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সিঙ্গুরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে সব ধরনের শস্য চাষ হয়। তাই সেখানে যাতে উৎপাদন বাড়ে, কৃষকরা সব ধরনের বীজ তৈরি করতে পারেন, নানা রকম খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ করা যায় তার ব্যবস্থা করছি আমরা।

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ও সরকারের জন্য সিঙ্গুর নিশ্চিতভাবেই এক মাইলফলক। মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পিছনে সিঙ্গুরের বিশেষ অবদান রয়েছে। যদিও ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রটি তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। এই হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে সিঙ্গুর। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের জন্য এই ঘোষণা করলেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণার পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি মুকুল রায় মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করেন।

মুকুল বলেন, সিঙ্গুর নিয়ে আর মমতাকে ভাবতে হবে না। রাজ্যে নতুন সরকার আসবে, তারাই সিঙ্গুর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করবে। অন্যদিকে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ফের ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসলে সিঙ্গুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতার মুখ। ওনার ভুল নীতির মাসুল গুনছেন সিঙ্গুরের হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, সিঙ্গুর রেল স্টেশন ও ট্রমা সেন্টারের কাছে ১১ একর জমিতে এই অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হবে। ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগম এই পার্ক গঠন করবে। ইতিমধ্যেই বাউন্ডারি দেওয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ওই শিল্প তালুকের জায়গা দেওয়ার জন্য ইচ্ছুক শিল্পপতিদের কাছে কয়েক দিনের মধ্যেই জমির জন্য আবেদনপত্র চাওয়া হবে।

১০ কাঠা থেকে শুরু করে ৩০ কাঠা পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের জমি দেওয়া হবে। শিল্পপতিদের ইচ্ছামত আমরা জমি তৈরি করে দিতে পারি বা যে অবস্থায় জমি পড়ে রয়েছে সেই অবস্থাতেও তাঁরা নিতে পারেন। এটা শিল্পপতিদের উপরে নির্ভর করছে। অন্যদিকে এদিন মুকুল রায় রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এই সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ। মানুষ এদের হাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে। ২০২১-এর নির্বাচন সেই পথ বাতলে দেবে। আমার খুব খারাপ লাগে যে, তৃণমূল দলটা উঠে যেতে বসেছে। কারণ আমি প্রথম নির্বাচন কমিশনে দলের অনুমতির জন্য নথিপত্র জমা দিয়েছিলাম।

Comments