ভারতীয় রাজনীতিবিদ বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত এর আজ প্রয়ান দিবস...

বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত (১৮ অগস্ট, ১৯০০ – ১ ডিসেম্বর, ১৯৯০) ছিলেন একজন ভারতীয় কূটনৈতিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন জওহরলাল নেহেরুর বোন,ইন্দিরা গান্ধীর পিসি ও রাজীব গান্ধীর পিসি-ঠাকুরমা।

বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্যাবিনেট মন্ত্রী। ১৯৩৭ সালে তিনি যুক্তপ্রদেশের প্রাদেশিক আইনসভায় নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাস ও জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী হন। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এবং পরে ১৯৪৬-৪৭ সালে তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি যুক্তপ্রদেশ থেকে ভারতের গণপরিষদে নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হন। ১৯৪৭-৪৯ সালে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে, ১৯৪৯-৫১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো, ১৯৫৫-৬১ সালে আয়ারল্যান্ডে (এই সময় তিনি যুক্তরাজ্যেও ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন) এবং ১৯৫৮-৬১ সালে স্পেনে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম মহিলা সভাপতি হন।[৩] (এজন্য ১৯৭৮ সালে তিনি আলফা কাপ্পা আলফা সোরোরিটির এক সাম্মানিক সদস্য হয়েছিলেন )

ভারতে তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ছিলেন। এরপর তিনি ফুলপুর থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। ফুলপুর ছিল জওহরলাল নেহেরুর লোকসভা কেন্দ্র। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত তিনি এই কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত তার ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কঠোর সমালোচক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় বিজয়লক্ষ্মী সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি হিমালয়ের পাদদেশে দুন উপত্যকার দেরাদুনে এসে বসবাস শুরু করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ভারতীয় প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। এরপর তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে বসবাস শুরু করেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দি ইভোলিউশন অফ ইন্ডিয়া (১৯৫৮) ও দ্য স্কোপ অফ হ্যাপিনেস: আ পার্সোনাল মেময়ার (১৯৭৯)।

Comments