ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর আজ মহাপ্রয়াণ দিবস...
১৯১৪ সালে পুলিশ তাকে কলকাতায় গ্রেপ্তার করে বরিশাল ষড়যন্ত্র মামলার আসামিরূপে আন্দামানে সেলুলার জেলে পাঠায়। পুলিনবিহারী দাস এবং তিনি উভয়েই ছিলেন অনুশীলন সমিতির প্রথম যুগের নেতা যারা সেলুলার জেলে বন্দি ছিলেন। ত্রৈলোক্যনাথ ১৯২৪ সালে জেল থেকে মুক্তি পান।[৩]
মুক্তির পর দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাশের পরামর্শে দক্ষিণ কলকাতা জাতীয় বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯২৭ সালে গ্রেপ্তার হয়ে বার্মার মান্দালয় জেলে প্রেরিত হন। ১৯২৮ সালে তাকে ভারতে এনে নোয়াখালী হাতিয়া দ্বীপে অন্তরীণ করে রাখা হয়। ঐ বছরই মুক্তি পেয়ে উত্তর ভারতে যান এবং চন্দ্রশেখর আজাদ প্রমুখের সংগে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মিতে যোগ দেন। পরে বিপ্লবী দলের আদেশে বার্মার বিপ্লবীদের সংগে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে বার্মায় যান। ১৯২৯ সালে লাহোর কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৩০ সালে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯৩৮ সালে মুক্তি পান।
তিনি সেই বছরেই সুভাষ চন্দ্র বসুর সংগে যোগাযোগ করে রামগড় কংগ্রেসে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহ ঘটাবার চেষ্টায় ভারতীয় সৈন্যদের সংগে যোগাযোগ করলেও সুবিধা করতে পারেননি। এ সময়ে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৪৬ সালে মুক্তি পান।
১৯৪৬ সালেই নোয়াখালীতে সংগঠন গড়বার চেষ্টা করেন। স্বাধীনতালাভের পর পূর্ব পাকিস্তানে নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। ১৯৫৪ সালে সংযুক্ত প্রগতিশীল দলের প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান এসেম্বলিতে নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৫৮ সালে তার নির্বাচন অগ্রাহ্য হয় এবং রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ এমনকি সামাজিক কাজকর্মেও তার ওপর বাধা আরোপ করা হয়। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত স্বগ্রামে প্রকৃতপক্ষে নির্জনবাস করেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন। এই সময় সম্বর্ধনার জন্য তাকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মারা যান।
তথ্য উইকিপিডিয়া
Comments
Post a Comment